
বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা ছাড়াও ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ কিয়দাংশ ও খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার অনেক রোগীসহ দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল আমাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।
বরিশাল শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত হাসপাতালটি। ১৯৬৪ সালে বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলেও ১৯৭০ সালের শেষে দিকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে আগ পর্যন্ত এই হাসপাতালটির নাম ছিল মোনায়েম হাসপাতাল। পরবর্তীকালে শের-ই বাংলা এ. কে ফজলুল হকের নামানুসারে নতুন নামকরণ হয় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
১৯৭০ সালে হাসপাতালটি ৩২৪ শয্যায় রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৭৪ সালে ৫০০ শয্যায় উন্নীত হয়। ২০১৩ সালে ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ১০০০ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামো পূর্বের ৫০০ শয্যা অনুযায়ী রয়ে গেছে। এখানে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগীয় অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা সেবার সুযোগ রয়েছে। হাসপাতাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ রোগী চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে। ১৯৭০ সালের ২ নভেম্বর আনোয়ার সাদিক খাজা প্রথমে এই হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হাসপাতাল চালুর প্রায় ৫৮ বছরে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ৬৯ জন পরিচালক।
৫০০ বেডের অবকাঠামোতে ৩০০০ এর বেশী রুগি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সবচেয়ে বড় সমস্যা। তার মধ্যে সীমিত সম্পদ ও দক্ষ মানব সম্পদের স্বল্পতা, অপ্রতুল সরঞ্জামাদি ও অপর্যাপ্ত বাজেট। পি.ডব্লিউ. ডি (চডউ) কর্তৃক অপর্যাপ্ত বাজেট। ফলে কাজের ধীর গতি ও অসহযোগিতা। ৫০০ বেডের অবকাঠামোতে ৩০০০ এর বেশী রোগী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সবচেয়ে বড় সমস্যা। তার মধ্যে সীমিত সম্পদ ও দক্ষ মানব সম্পদের স্বল্পতা, অপ্রতুল সরঞ্জামাদি ও অপর্যাপ্ত বাজেট। পি.ডব্লিউ. ডি (চডউ) কর্তৃক অপর্যাপ্ত বাজেট। ফলে কাজের ধীর গতি ও অসহোযোগীতা।
১৯৬৮ মাত্র ৩৬০ শয্যার অবকাঠামো নিয়ে নির্মিত হয়ে ছিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি। ৫৮ বছর পর হাসপাতালটির অবকাঠামোগত তেমন উন্নতি হয় নি। কিন্তু দিনে দিনে বেড়েছে রোগী। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন নতুন ভাবে ৭৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। ফলে হাসপাতালে অন্তঃ বিভাগে ভর্তি থাকেন প্রায় ৩ হাজার রোগী। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার রোগী। প্রতি ১ জন রোগীর সাথে তাদের স্বজন কিংবা দর্শনার্থী আসেন ৩ জন করে। তাই ওই মোট ৬ হাজার রোগীর সাথে ৩ জন করে স্বজন কিংবা দর্শনার্থী যোগ করলে ২৪ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই হাসপাতালে। তার সাথে কলেজ ও হাসপাতালের ৫০০ চিকিৎসক, ১০০০ খানেক নার্স, ৫০০ অন্যান্য স্টাফ, মেডিকেল কলেজ, আইএইচটি ও নাসিং কলেজের শিক্ষার্থীসহ আরো ৬ হাজার সেবাদানকারী। ওই ২৪ হাজার রোগী ও দর্শনার্থীর সাথে এই ৬ হাজার মিলিয়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই হাসপাতালে। কিন্তু অবকাঠামোগত কোন উন্নতি না হওয়ায় মানুষের অতিরিক্ত চাপে হাসপাতালের টয়লেট ও পরিবেশ নোংড়া হওয়াসহ সর্বক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ঔষধ সরবরাহসহ সর্ব সাধারণের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমাদের বেশ কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। হাসপাতালের রোগী সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা তিন ধাপে পরিকল্পনা ও নানান কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ করছি। এরমধ্যে রয়েছে স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি।


